April 19, 2026, 11:07 am

লিচু চাই না বাবাকেই চাই ছোট্ট ইসা

তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার ছোট ইসা। শনিবারই বাবার সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ইসাকে বাবা বলেছিলেন- ভালো করে লেখাপড়া করতে। ছেলেও আবদার করেছিলো লিচুর। কিন্তু বাবার সেই লিচুর অপেক্ষার প্রহর আর কোনো দিন শেষ হবে না ছোট্ট ইসার।
লিচুর বদলে এখন সে বড় বোন সায়মাকে নিয়ে বাবাকেই খুঁজে ফিরছে। বাবাকে শনাক্তে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এসেছে তারা। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা দেবে।

ইসা ঘটনার ভয়াবহতা পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও বোন সায়মা যেন ঠিকই বুঝেছে। তাই তার চাচা আনিসুল যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তখন পাশে দাঁড়িয়ে বারবার চোখ মুছছিলো সায়মা।
শনিবার রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর থেকেই তাদের বাবা আবুল হাসেম নিখোঁজ। তিনি একজন কাভার্ডভ্যান চালক। সেদিন রাতে ঢাকা থেকে পোশাক পণ্য নিয়ে ডিপোতে এসেছিলেন।

নিখোঁজের বড় ভাই আনিসুল জানান, নুসরাত পরিবহন নামে একটি কাভার্ডভ্যান চালাতেন হাসেম। ঘটনার দিন তাকে ফোন দিয়ে পোশাক পণ্য বিএম ডিপোতে আনতে বলা হয়। এরপর শনিবার রাতে ঢাকা থেকে সেগুলো নিয়ে তিনি ডিপোতে আসেন।

আনিসুল বলেন, ওইদিন রাতে আমার ভাই ফোন করে ফোরম্যান এবং তার স্ত্রীকে আগুন লাগার খবর জানান। তখন স্ত্রী বলেছিলেন তাকে চলে আসতে। কিন্তু ভাই, কিছুক্ষণ পর আসছেন বলে জানান। ঘটনার দিন যে ছেলেটা ভিডিও করে আগুন দেখাচ্ছিল সেই ভিডিওতে আমার ভাইকে হাঁটতে দেখা গেছে। কয়েকবার তাকে হাঁটতে দেখেছি সেখানে। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ নেই।
নিখোঁজ হাসেমের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ে সায়মা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। আর ছোট মেয়ে পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। সবার ছোট ছেলে মাদরাসায় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।
ডিএনএ নমুনা দিতে আসা ছোট ছেলে ইসা বলে, বাড়ি থেকে বাবা বের হওয়ার সময় বলেছিল ভালো করে পড়াশুনা করতে। এটাই বাবার সঙ্গে শেষ কথা।
শনিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আগুন লাগে। আগুন লাগার পর রাসায়নিকের কন্টেইনারে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে থাকলে বহু দূর পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। অগ্নিকাণ্ড ও ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জনে দাঁড়ায়।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা